নিজস্ব প্রতিবেদক:
পিরোজপুর পৌর শ্মশানের কালীমন্দিরে ভাঙচুর, মূল্যবান সামগ্রী চুরি এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
পৌর শ্মশান কমিটির সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী জানান, সকালে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখতে পান। মন্দিরের পাশের শিবঠাকুরের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। প্রতিমার বিভিন্ন অংশ বাইরে এনে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শ্মশানের মূল ফটকের দুটি তালা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মন্দিরের প্রণামি বাক্সসহ মৃতদেহ সৎকারের কাজে ব্যবহৃত কাঁসা, পিতল ও তামার বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছে। পূজার বিভিন্ন উপকরণও পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুনীল চক্রবর্তী বলেন, “চুরি হওয়া এক বিষয়, কিন্তু প্রতিমা ভাঙচুর করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এর মাধ্যমে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি।”
ঘটনার খবর পেয়ে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী এবং পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করেন।
এ বিষয়ে ওসি শরীফুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমরা দুটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করছি। একটি হলো চুরির ঘটনা, অন্যটি হলো নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”
ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছে।