নিজস্ব প্রতিবেদক:
বগুড়ার কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) এর এক নারী প্রশিক্ষণার্থীকে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগে এনসিপির এক নেতাকে প্রশিক্ষণ কোর্স থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সোমবার এ সিদ্ধান্ত নেয় টিটিসি কর্তৃপক্ষ।
বহিষ্কৃত আলী আজম সাব্বির শিবগঞ্জ পৌর এলাকার দহিলা গ্রামের সেকেন্দার আলীর ছেলে। তিনি এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সমন্বয়ক কমিটির সদস্য এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিবগঞ্জ উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি। তিনি টিটিসির রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং (আরএসি) ট্রেডের প্রশিক্ষণার্থী ছিলেন।
টিটিসির অধ্যক্ষ এস এম ইমদাদুল হকের স্বাক্ষরিত বহিষ্কারাদেশ সোমবার প্রতিষ্ঠানের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো হয়। এতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং নারী প্রশিক্ষণার্থীদের হয়রানি, অশালীন ও অনভিপ্রেত আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একাডেমিক কাউন্সিল তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও টিটিসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান শাহীন জানান, অভিযুক্ত প্রশিক্ষণার্থী অভিযোগের বিষয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে মুচলেকা দিয়েছেন। এ কারণে তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
এর আগে গত ২৪ মে টিটিসিতে উত্ত্যক্ত ও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে এক নারী প্রশিক্ষণার্থী আলী আজম সাব্বিরকে অফিসকক্ষে জুতাপেটা করেন। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে অভিযুক্তকে ওই প্রশিক্ষণার্থীর কাছে ক্ষমা চাইতেও দেখা যায়।
টিটিসির অধ্যক্ষ বলেন, নারী প্রশিক্ষণার্থীদের উত্ত্যক্ত করা, হয়রানি করা এবং আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর অভিযোগ তদন্তে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর এনসিপির বগুড়া জেলা শাখা আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। জেলা শাখার সভাপতি এম এস এ মাহমুদ জানান, তাঁকে তিন দিনের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।